কবি, সাহিত্যিক হওয়াকে জীবনের লক্ষ্য বানানো যাবে না — মাওলানা যাইনুল আবিদীন
শামাদান টিমের উদ্যোগে কথাশিল্পী ও বিদগ্ধ আলেমে দীন মাওলানা যাইনুল আবিদীন সাহেবের সাথে সাহিত্যচর্চা ও ভাষার দর্শন নিয়ে দীর্ঘ আলাপচারিতা।
বিগত ১৮-ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রোজ সোমবারে আমরা শামাদান টিম উপস্থিত হয়েছিলাম সময়ের অন্যতম কথাশিল্পী ও বিদগ্ধ আলেমে দীন মাওলানা যাইনুল আবিদীন সাহেবের বাসায়। উদ্দেশ্য ছিল, শামাদানের বিশেষ সংখ্যার বিষয়ে পরামর্শ করা এবং এ উপলক্ষে মুহতারামের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া।
পরিচিতি ও সাধারণ সৌজন্য কথাবার্তা দিয়ে শুরু হওয়া সেই মুবারক মজলিস রূপ নিয়েছিল এক প্রাণবন্ত উন্মুক্ত আড্ডায়। লেখালিখি ও সাহিত্যচর্চা-সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তরের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের আলাপ ঢুকে পড়ে রাজনীতির অঙ্গনেও। কথা হয় দেশীয় রাজনীতিসহ বিশ্বরাজনীতির নানা প্রসঙ্গে।
সুদীর্ঘ তিন ঘণ্টার সেই আলোচনা সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করতে গেলে তা ছোট কলেবরের একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে রূপ নেবে। শামাদানের পাঠকদের জন্য আলোচনার নির্বাচিত প্রাসঙ্গিক অংশটুকু পেশ করা হয়েছে। লেখালেখি সংক্রান্ত দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকার পড়বেন শামাদানের বিশেষ সংখ্যায়। একটুখানি নমুনা দেখা যেতে পারে—
“আমরা সাধারণত যেটা করি, সেটা হলো, ভাষার প্রচলিত রেওয়াজটাই কেটে ফেলি। একটি শব্দ সাধারণ মানুষ যেভাবে বুঝে ও ব্যবহার করে, আমরা মনে করি, এভাবে বললে এর মধ্যে ইসলাম থাকে না, আদব থাকে না কিংবা তাসাউফের দর্শন ফুটে ওঠে না। তাই সেই প্রচলিত শব্দটি বাদ দিয়ে আমরা আমাদের নিজস্ব একটি শব্দ ব্যবহার করি। অথচ এই শব্দটা তো এ দেশের মানুষের না। এখানেই একটা বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়।
এ জায়গাটাতে চিন্তা ও বিতর্কের সুযোগ আছে। আমরা মনে করি, সাহিত্যকে এমনভাবে ঢেলে সাজানো উচিত, যাতে ইসলামি পরিভাষা, ইসলামি শব্দ এবং ইসলামি ভাবধারার সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো ভাষার মধ্যে চলে আসে। আবার হিন্দুয়ানি সাংস্কৃতিক উপাদানের যে প্রভাব রয়েছে, তার বিপরীতে যেন এমন একটি স্বতন্ত্র ইসলামি সাহিত্য-সংস্কৃতি দাঁড়িয়ে যায় যেখানে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো সাংস্কৃতিক উপাদানের কোনো প্রভাব বাকি না থাকে।
কুরআন কারিম পড়লে, মনে হয় কুরআন থেকে এই চিন্তাটা বুঝা যায় না। আরবরা যে সমস্ত মূর্তির নাম নিত, ওই নামেই মূর্তিগুলো কুরআন শরিফে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা যে তাহজিব তামাদ্দুন লালন করত, সেই শব্দগুলো কুরআন শরিফের মধ্যে ওইভাবে জায়গা দেওয়া হয়েছে। শব্দ কোনো বিশ্বাসের জিনিস না। বিশ্বাসের জিনিস হলো ‘ভাব’।”
•
শামাদান বিশেষ সংখ্যা: আমাদের সাহিত্যচর্চা
লেখা: ১৯
কবি,সাহিত্যিক হওয়াকে জীবনের লক্ষ্য বানানো যাবে না
—মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন (সাক্ষাৎকার)
ইসলামী বইমেলা ২০২৬